fastbangla ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৫:১১ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের রদবদলের প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকা দলটি এবার ক্ষমতার অন্যতম দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনটি ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ থাকায় এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি এবং জামায়াতসহ ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াতের জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির জনপ্রিয়তা যেখানে ৩৩ শতাংশ, সেখানে জামায়াতের সমর্থন ২৯ শতাংশ—যা ব্যবধানকে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। স্থানীয় জরিপগুলোতে এই ব্যবধান আরও সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড এবং নিষেধাজ্ঞার পর জামায়াতের এই পুনরুত্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন। দলটির নেতারা দাবি করছেন, অতীতের নিপীড়ন ও ত্যাগের কারণেই জনগণের একটি অংশ এখন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার পর দলটি সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এবারের নির্বাচনে জামায়াত নিজেদের একটি ‘মধ্যপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
নারী অধিকার কিংবা শরীয়া আইন নিয়ে সমালোচকদের আশঙ্কা নাকচ করে দলটি বলছে, তারা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। নিজেদের ভাবমূর্তি আরও বিস্তৃত করতে এবার প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জামায়াতের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সংগঠনটির সাফল্য তরুণ ভোটারদের সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে হতাশ একাংশ ভোটার এবার জামায়াতকে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এককভাবে সরকার গঠন করা এখনো দলটির জন্য কঠিন হতে পারে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, বিপরীতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু আদর্শিক লড়াই নয়; বরং সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি—এই বিষয়গুলোই শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।











