জাতীয়

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বগুড়া আফাকু’র ৩৮ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিলের অপচেষ্টায় দেশজুড়ে তোলপাড়!

  fastbangla ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:২০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

৬৬

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বগুড়া আফাকু’র ৩৮ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিলের অপচেষ্টায় দেশজুড়ে তোলপাড়!

‘ ইসলামী ব্যাংক বলছে- আইনের বাহিরে কিছু করা হবে না। আদালতের আদেশে দুদকের কার্যক্রম চলমান’

‘সব টাকা পরিশোধে কল ব্যাক নোটিশের মেয়াদ শেষেও ব্যাংকে জমা হয়নি কোন টাকা’

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের প্রায় ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র বড়গোলা শাখা কর্তৃক অবৈধভাবে পুনঃতফসিলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকায় পলাতক এমডি এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিলের অপচেষ্টা চলছে, যা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন বিষয়। এদিকে গত ৩ ডিসেম্বর-২৪ বড়গোলা শাখার ব্যবস্হাপক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানকে ১৮ ডিসেম্বর-২০২৫ তারিখের মধ্যে সব টাকা পরিশোধ করতে চূড়ান্ত কল ব্যাক নোটিশ প্রদান করেন। যার সময়সীমা পার হলেও এখন টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এমডি ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আমেরিকায় পলাতক হন। অথচ ব্যাংকে জমা দেওয়া রেজুলেশনে দেখা গেছে, ১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে কিচক আফাকুর কার্যালয়ে রেজুলেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আইন বহির্ভূতভাবে ঋণ পুনঃতফসিলে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র বগুড়ার বড়গোলা শাখার ব্যবস্থাপক তৌহিদ রেজাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই ঢাকা হেড অফিস থেকে ডেপুটেশনে মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদকে নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়।
তবে এই বদলি ঘিরে আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে ঋণ পুনঃতফসিলের পথ সুগম করতেই তাঁকে তড়িঘড়ি করে এখানে পদায়ন করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিকরা।
সদ্য যোগদানকৃত ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আমাকে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে—এর পেছনের কারণ আমি নিজেও জানি না। তবে ব্যাংকের সুনাম রক্ষার্থে আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করার প্রশ্নই ওঠে না। আমি নতুন যোগদান করেছি, সব ফাইল স্টাডি করেই আইন অনুযায়ী যা হওয়ার, তাই করবো। তিনি আরও বলেন, আমেরিকায় পলাতক আফাকু কোল্ড স্টোরেজের এমডির স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক হেড অফিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আমেরিকায় পলাতক আসামি আফাকু কোল্ড স্টোরেজের এমডি নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে ভিডিও জুম মিটিং করে সেই ভিডিও আরজেএসসি (RJSC)-তে সত্যায়িত করে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, জুলাই গণহত্যার ৯টি মামলার আসামিদের মাধ্যমে ধারণকৃত ভিডিও কীভাবে আইনসিদ্ধ হতে পারে? এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হিসেবে তদন্তাধীন একটি বিষয়ে এমন উদ্যোগ কতটা বৈধ?

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে পলাতক এমডি শাহজাহান চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রশ্নগুলো এখন ব্যাংকিং খাত ছাড়িয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তার হঠাৎ বদলি এবং পলাতক আসামির সঙ্গে ভিডিও যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন আর সাধারণ ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; এটি একটি বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির দিকে ইঙ্গিত করছে।