অর্থনীতি

বগুড়ায় আফাকু কোল্ড স্টোরেজে ৩৮ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি: পলাতক এমডির স্বাক্ষর জাল করে পুনঃতফসিলের চক্রান্ত, দুদককে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

  fastbangla ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:২৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

৯৫

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া:

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করতে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে বোর্ড সভার রেজুলেশন, জাল স্বাক্ষর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির একটি শাখায় ঋণ পুনঃতফসিলের চেষ্টার প্রমাণ মিলেছে।

এই ঘটনায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে মামলা গ্রহণ, দুদকের প্রতি কড়া নির্দেশ

আদালত সূত্রে জানা যায়,
গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৩৮ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও অবৈধ পুনঃতফসিল চক্রান্তের অভিযোগে মিল্লাত হোসেন নামের এক ব্যক্তি বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আদালত দুদক বগুড়া কার্যালয়কে অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য উঠে এলো

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানা গেছে—

১৯ আগস্ট ২০২৪
আফাকু কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী (জুলাই গণহত্যার ৯ মামলার আসামি)
এবং তার স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজু যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান।

অথচ,
০১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ব্যাংকে জমা দেওয়া বোর্ড রেজুলেশনে
তাদের বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক এলাকায় উপস্থিত থেকে সভায় অংশগ্রহণ ও স্বাক্ষরের তথ্য দেখানো হয়।

এসবি’র তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পুলিশের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

💰 ঋণের পরিমাণ ও পুনঃতফসিলের ইতিহাস

ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বড়গোলা শাখা সূত্রে জানা যায়—

২০১০ সালে আফাকু কোল্ড স্টোরেজকে দেওয়া হয় ২২ কোটি টাকা ঋণ

সুদ ও মুনাফাসহ বর্তমানে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে
৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৬ বার ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পেয়েছে

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,
লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা হয়েছে।

📜 বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী—

লাভজনক প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তার আওতায় পুনঃতফসিল পেতে পারে না

জালিয়াতির অভিযোগ থাকলে পুনঃতফসিলের সুযোগ নেই

সর্বনিম্ন ৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হলেই নীতি সহায়তা কমিটির বিবেচনার সুযোগ থাকে

কিন্তু এসব নীতিমালা উপেক্ষা করেই পুনঃতফসিলের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

🚨 পুলিশের তথ্য উপেক্ষার অভিযোগ

পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে
স্বাক্ষর জালিয়াতি ও পলাতক পরিচালকের তথ্য লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও
তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরং গোপন সূত্রে জানা গেছে,
এসব তথ্য উপেক্ষা করেই পুনঃতফসিলের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল।

👥 মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা

ড. এম জুবায়দুর রহমান — চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

মোঃ ওমর ফারুক খান — ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

মাহমুদ হোসেন খান — ইনচার্জ (CID-2), ইসলামী ব্যাংক

মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ — উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক

সিকদার শাহাবুদ্দিন — জোনাল ইনচার্জ (বগুড়া)

বায়োজিত সরকার — পরিচালক (BRPD), বাংলাদেশ ব্যাংক

মাহমুদুর রহমান — চেয়ারম্যান, আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড

🗣️ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

ইসলামী ব্যাংক বগুড়া জোনাল হেড সিকদার শাহাবুদ্দিন বলেন,

<span;>> “মামলার বিষয়ে এখনও অবহিত নই। বিস্তারিত জানতে হেড অফিসে যোগাযোগ করুন।”

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বলেন,

<span;>> “আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

🔎 জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগ

৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, পলাতক আসামি ও জালিয়াতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও
পুনরায় সুবিধা দেওয়ার চেষ্টায় ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সর্বত্র।