fastbangla ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:০২ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:

উত্তর জনপদে হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে বা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসরত দুস্থ মানুষদের কষ্ট এখন চরমে। এমন কঠিন সময়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
ঐতিহাসিক মহাস্থান মাজার এলাকায় গভীর রাতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান।

এক টুকরো উষ্ণতা ও স্বস্তির হাসি
সরেজমিনে দেখা যায়, কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে মহাস্থান মাজার ও এর আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিচ্ছেন ইউএনও। হঠাৎ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক বৃদ্ধ ও নারী। এক বৃদ্ধা কম্বল হাতে পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “বাবা, এই জাড়োত (শীতে) খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম, এই কম্বলটা পাওয়ার পর আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।”

প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ
কম্বল বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রচণ্ড শীতের কারণে ছিন্নমূল ও দুস্থ মানুষের কষ্ট আমরা অনুভব করছি। সরকারের পক্ষ থেকে এই সামান্য উপহার নিয়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। শিবগঞ্জ উপজেলার কোনো মানুষ যাতে শীতে কষ্ট না পায়, সেজন্য আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপস্থিত ছিলেন যারা
মানবিক এই কার্যক্রমে ইউএনও-র সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহিরুল ইসলাম এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা কেবল কম্বলই দেননি, বরং অসহায় মানুষদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রশংসায় ভাসছে উপজেলা প্রশাসন
মাঝরাতে প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এই ছবি ও সংবাদ শেয়ার করে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, কেবল দিনের বেলাতেই নয়, বরং মধ্যরাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিল।











